ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব

    পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব

    পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের গুরুত্ব
    Rate this post

    খোদায়ী রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের অমৃত-সাগরে সিক্ত পবিত্র রমজান মাসের বরকতময় দিনগুলো দ্রুত অতিবাহিত হচ্ছে । মহান আল্লাহ এ মাসকে অন্য সব মাসের চেয়ে বেশী মহিমান্বিত, গুণান্বিত, করুণান্বিত এবং মর্যাদাসম্পন্ন করেছেন । এর কারণ আল্লাহর বান্দারা রোজা রাখার মাধ্যমে এই মাসে তাকওয়া বা খোদাভীতি অর্জন করেন । এ ছাড়াও মহান আল্লাহ রমজান মাসে নাজেল করেছেন পবিত্র কোরআন। আর এই কোরআন মানবজাতির জন্য পথ প্রদর্শনের মাধ্যম এবং সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয়কারী । তাই পবিত্র কোরআনের মত মহা নেয়ামত প্রদানের মাস হিসেবেও রমজান মাস অনন্য ও স্বকীয় মহিমায় ভাস্বর। মহান আল্লাহর এই মহা নেয়ামতের শুকরিয়া তখনই জ্ঞাপন করা হবে যখন আমরা এ মাসে পবিত্র কোরআন থেকে সবচেয়ে বেশী রহমত, বরকত, জ্ঞান ও পথনির্দেশনা লাভের মাধ্যমে নিজ আত্মা ও চরিত্রকে এবং আমাদের আশপাশের জগতকে আলোকিত ও প্রজ্জ্বোল করতে পারবো।
    এটা স্পষ্ট যে, রমজান মাসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও পবিত্র কোরআনের অর্থ বা ব্যখ্যা অধ্যয়ন অত্যন্ত জরুরী। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে বলেছেন, যে কেউ রমজান মাসে পবিত্র কোরআনের মাত্র একটি আয়াত তেলাওয়াত করবে সে অন্য মাসে পুরো পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের সাওয়াব পাবে।

    আমীরুল মুমিনিন হযরত আলী (আঃ) রমজান মাসকে পবিত্র কোরআনের বসন্তকাল বলে উল্লেখ করেছেন । ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী প্রতি বছর পবিত্র রমজান মাসে পবিত্র কোরআনের শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে যুব সমাজসহ বিশ্বের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কোরআন তেলাওয়াতসহ কোরআন চর্চার বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন । সম্প্রতি তিনি পবিত্র কোরআনের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন, পবিত্র কোরআন মুসলমানদের জন্য সম্মান ও গৌরবের মাধ্যম। কোরআন মানুষের সমাজ জীবনের এক সামগ্রীক বা পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা এবং এ মহাগ্রন্থ মানুষের সৌভাগ্যময় ও সম্মানজনক জীবনের জন্য গাইড বা পথনিদের্শনা ।
    পবিত্র কোরআনের প্রতি ভালোবাসা একটি বড় নেয়ামত । যারা এ নেয়ামতের অধিকারী, তারা অনেক আধ্যাত্মিক নেয়ামতের অধিকারী হয় এবং অন্যরা এ ধরনের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়।
    পবিত্র কোরআনের প্রতি ভালবাসা কিভাবে সৃষ্টি করতে হবে ? এ প্রসঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, প্রথমতঃ পবিত্র কোরআন খুব ভালোভাবে সুন্দর ও শুদ্ধ উচ্চারণে তেলাওয়াত করা শিখতে হবে। দ্বিতীয়তঃ কোরআনের আয়াতুগলোর অর্থ ভালোভাবে বুঝতে ও হৃদয়ঙ্গম করতে হবে এবং তৃতীয়তঃ পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়াও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনের হাফেজ হলে বার বার আয়াতগুলো তেলাওয়াতের মাধ্যমে এ ঐশী মহাগ্রন্থের সাথে আপনার প্রেম ও ভালবাসা স্থায়িত্ব পাবে, এর ফলে আপনি কোরআনের আয়াতগুলোর গভীর অর্থ বা তাৎপর্য সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করতে পারবেন। এ মহাগ্রন্থে এমন অনেক সূক্ষ্ম আয়াত রয়েছে যেগুলোর গভীর অর্থ চিন্তাভাবনা ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।

    ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মতে পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াত ও চর্চা শুধু পবিত্র রমজানেই সিমীত রাখা উচিত নয়। কোরআনের ক্বারীদের উচিত সমাজের সবার কাছে এ মহাগ্রন্থের বাণীকে তুলে ধরা যাতে সবাই সহজে এর আয়াতগুলোর অর্থ বুঝতে পারে। অবশ্য বাহ্যিক অর্থ বোঝার পর কোরআনের বাণীর অন্তনিহিত তাৎপর্য বোঝা আরও বেশী গুরুত্বপূর্ণ । আর এ জন্য কোরআনের আয়াতগুলো নিয়ে বেশী বেশী চিন্তাভাবনা জরুরী। অজানা জ্ঞান ও সূক্ষ্মদর্শিতা, দূরদর্শিতা বা গভীর জ্ঞান এবং প্রজ্ঞা অর্জনের জন্য পবিত্র কোরআন এক অন্তহীন মহাউৎস। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, কোরআন এমনভাবে তেলাওয়াত করা উচিত যেন মহান আল্লাহ নিজে আপনার সাথে কথা বলছেন। কিংবা একজন বড় মাপের নেতা আপনার কাছে চিঠি লিখলে আপনি যেভাবে গুরুত্ব দিয়ে ও মনোযোগ দিয়ে সে চিঠি পড়ে থাকেন, পবিত্র কোরআনকেও সেভাবে পড়ুন।

    পবিত্র কোরআনের প্রতি সবচেয়ে বড় বা গভীরতম ভালবাসার নিদর্শন হলো এর শিক্ষাগুলোকে নিজ জীবনে বাস্তবায়িত করা । বিশ্বের মানুষ যদি কোরআনের শিক্ষাগুলোর আলোয় নিজ জীবনেকে আলোকিত করেন, তবে বিশ্ব থেকে সব পাপ-পংকিলতা ও সংকট বিদায় নেবে। ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এ প্রসঙ্গে বলেছেন, পবিত্র কোরআনের মূল সত্তা ও ভিত্তি হলো এর ওপর আমল বা এর শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করা। তাই আমাদের তৎপরতা ও সমাজের তৎপরতা হতে হবে কোরআনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পবিত্র কোরআনের বাণীকে বিশ্বাস করতে হবে এবং এর প্রতিশ্রুতিগুলোকে সত্য বলে মনে করা উচিত। পবিত্র কোরআনের সমস্ত শিক্ষাকেই গুরুত্ব দিতে হবে। এর কিছু অংশকে গুরুত্ব দেয়া ও কিছু অংশকে কম গুরুত্ব দেয়া বা উপেক্ষা করা ঠিক হবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, অনেকে কোরআনের এবাদত সংক্রান্ত বাণীগুলোর প্রতি ঈমান এনেছে, কিন্তু রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা বা নির্দেশগুলোর প্রতি ঈমান আনে নি।
    ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মতে পবিত্র কোরআন এতো সমৃদ্ধ গ্রন্থ যে, এতে মানুষের উন্নতি ও পূর্ণতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত দিক নির্দেশনা রয়েছে । এটা এ মহাগ্রন্থের সবচেয়ে বড় অলৌকিকতা বা মোজেজা। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, পবিত্র কোরআনে রয়েছে হেকমাত ও নূর তথা প্রজ্ঞা ও আলো বা দিক নির্দেশনা। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বর্তমান বিশ্বে যেসব সংকটের গিঁঠ মানুষের মনে ও প্রাণে সৃষ্টি হয়েছে, পবিত্র কোরআনে এইসব সংকটেরই সমাধান রয়েছে ।
    মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা পবিত্র কোরআনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মুসলিম বিশ্ব যদি আজ ঐক্যবদ্ধ থাকতো তাহলে ফিলিস্তিন, ইরাক, আফগানিস্তান, কিংবা কাশ্মীরসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে মুসলমানরা তাগুতি বা সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মাধ্যমে এত নির্যাতন ও বঞ্চনার শিকার হতো না। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে শক্ত করে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না । তাই বিশ্বব্যাপী মুসলিম ভ্রাতৃত্ব জোরদারের জন্য আন্তরিক পদক্ষেপ নেয়া একজন প্রকৃত মুমিন ও রোজাদারের অন্যতম কর্তব্য হওয়া উচিত ।
    হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মতে, ইসলামী জাগরণ সৃষ্টির জন্য পবিত্র কোরআনের শিক্ষাগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরী। কারণ, মুসলমানদের অগ্রগতি ও উন্নতির সূত্র রয়েছে এ মহাগ্রন্থে। ইরানের ইসলামী বিপ্লব পবিত্র কোরআনের শিক্ষাগুলো থেকেই প্রেরণা নিয়েছে। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, অন্য সব মানব-রচিত মতবাদের তুলনায় আমাদের শ্রেষ্ঠত্বের ও গৌরবের দিক হলো এটা যে, এ বিপ্লব কোরআনের শিক্ষা থেকে উৎসারিত হয়েছে। তাই অন্যান্য বিপ্লব বা মতাদর্শের চিন্তাধারাগুলো তুচ্ছ ও অস্পষ্ট। অন্যদিকে কোরআনের আলোয় উদ্ভাসিত হওয়ায় আমাদের এ বিপ্লবের বাণী সবার জন্য বোধগম্য ও ব্যবহারযোগ্য। পবিত্র কোরআনের চেহারার ওপর যেসব পর্দা রাখা হয়েছে, সেগুলোকে সরিয়ে দেয়া এবং এ মহাগ্রন্থকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে বের করে আনা প্রত্যেক বিপ্লবী মুসলমানদের দায়িত্ব।
    পবিত্র কোরআন মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ উপহার । সব যুগের জন্য মানবজাতির চিরন্তন সৌভাগ্যের সর্বোত্তম পথনির্দেশক এ মহাগ্রন্থকে ভালোভাবে উপলব্ধি করা হোক পবিত্র রমজানে আমাদের অন্যতম প্রধান শপথ ও সাধনা এবং কোরআন হোক সব সময়ের জন্য আমাদের ঘনিষ্ঠ সঙ্গী।(রেডিও তেহরান)