ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা রা’দের ১১ নং আয়াতের অর্থসহ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

    সূরা রা’দের ১১ নং আয়াতের অর্থসহ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

    সূরা রা’দের ১১ নং আয়াতের অর্থসহ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
    Rate this post

    ” মানুষের জন্য তার সম্মুখে ও পশ্চাতে একের পর এক প্রহরী থাকে, তারা আল্লাহর আদেশে তার রক্ষণাবেক্ষণ করে। আল্লাহ অবশ্যই কোন সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজ অবস্থা নিজে পরিবর্তন করে। কোন সম্প্রদায় সম্পর্কে আল্লাহ যদি অশুভ কিছু ইচ্ছা করেন তবে তা রদ করার কেউ নেই। এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোন অভিভাবক নেই।”
    এর আগে বলা হয়েছে, সৃষ্টি জগতের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য যা কিছু আছে সব কিছুই আল্লাহ জানেন। কোন কিছুই তাঁর অজানা নয়। এই আয়াতে বলা হচ্ছে, আল্লাহ তা’লা প্রত্যেক মানুষের জন্য একজন ফেরেশতা নিয়োজিত করেছেন, এই ফেরেশতা মানুষকে নানা বিপদাপদ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করে। বিশ্ব প্রকৃতি আল্লাহরই সৃষ্টি এবং আল্লাহরই বেধে দেওয়া নিয়মে প্রকৃতির সব কিছু পরিচালিত হচ্ছে। কাজেই প্রকৃতিতে যে সব ঘটনা বা দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়, তা আল্লাহর ইচ্ছায়ই হয়ে থাকে। ফলে প্রকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে ফেরেশতারাই মানুষকে রক্ষা করে।
    এ আয়াতে আরেকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, বলা হয়েছে প্রকৃতিতে কোন কিছু সংঘটিত করার শক্তি বা সামর্থ মানুষের নেই, কিন্তু মানুষকে তার ভাগ্য গড়ার সামর্থ দেয়া হয়েছে। সেটি ব্যক্তিগত হোক কিংবা সামাজিক হোক, মানুষ তার ভবিষ্যত বিনির্মাণের ক্ষেত্রে সামর্থবান। এটা প্রত্যাশা করা উচিত নয় যে, মানুষের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার জন্য আল্লাহ পাক ফেরেশতা নিয়োগ করবেন। মানুষ যদি তার ব্যক্তিগত বা সামাজিক জীবনে সফলতা আনতে চায় তাহলে এজন্য তাকেই উদ্যোগী হতে হবে, নৈরাজ্য পরিহার করে সঠিক পথে চলার উদ্যোগ নিতে হবে এবং জুলুম-অত্যাচারের মূলোৎপাটন করে ন্যায়পরায়নতাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। অলৌকিকভাবে আদর্শ সমাজ বা আদর্শ রাষ্ট্র গড়ে উঠে না, এজন্য মানুষকেই সম্মিলিতভাবে সচেষ্ট হতে হবে।
    এ ক্ষেত্রে ঐশি নিয়মের কথাও এই আয়াতে ব্যক্ত করা হয়েছে, বলা হয়েছে, কোন জাতি যতক্ষণ না নিজেরা নিজেদের উন্নতির জন্য সচেষ্ট হয় ততক্ষণ আল্লাহও তাদের উন্নতি নিশ্চিত করেন না। আবার এটাও বলা হয়েছে, যারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য সচেষ্ট হয় না তারা সমুহ বিপদে নিমজ্জিত হয় এবং ঐশি শাস্তিও তাদেরকে গ্রাস করে। যদি কেউ বা কোন জাতি এ অবস্থায় উপনিত হয় তাহলে কারো সাহায্যই তাদের কাজে আসে না।

    জনগণের প্রচেষ্টায়ই প্রত্যেক জাতি বা রাষ্ট্রের উন্নতি সাধিত হয়। জনগণ যখন আল্লাহর উপর নির্ভর করে নিজেদের ভাগ্য গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করে তখন মহান আল্লাহ তাদেরকে সেই সামর্থ দিয়ে সাহায্য করেন।