ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা রা’দের ১৭ নং আয়াতের অর্থসহ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

    সূরা রা’দের ১৭ নং আয়াতের অর্থসহ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

    সূরা রা’দের ১৭ নং আয়াতের অর্থসহ সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
    Rate this post

    প্রথমে দেখা যাক ১৭ নং আয়াতে কি বলা হয়েছে-

    “তিনি আকাশ থেকে পানি বর্ষন করেন। অতঃপর স্রোতধারা প্রবাহিত হতে থাকে নিজ নিজ পরিমাণ অনুযায়ী। অতঃপর প্লাবন তার উপরিস্থিত আবর্জনা বহন করে। যখন অলংকার অথবা তৈজসপত্র নির্মাণের উদ্দেশ্যে কিছু অগ্নিতে উত্তপ্ত করা হয় তখন এরূপে আবর্জনা উপরিভাগে আসে। এভাবে আল্লাহ সত্য ও অসত্যের দৃষ্টান্ত দিয়ে থাকেন। অতএব ফেনা বা আবর্জনা চলে যায় এবং মানুষের জন্য যা উপকারী মাটিতে তা থেকে যায়। আল্লাহ এভাবে উপমা দিয়ে থাকেন।”
    এই আয়াতের শেষ ভাগে বলা হয়েছে, আল্লাহ তায়ালা মানুষের সামনে সত্য ও মিথ্যা সুস্পস্ট করার জন্য এমন উদাহরণ বা উপমা ব্যবহার করেন যার সাথে তারা পরিচিত এবং যা তাদের সহজেই বোধগম্য হয়। এই আয়াতে সত্যকে পানির সাথে এবং মিথ্যাকে পানির ফেনার সাথে তুলনা করা হয়েছে। পানির অপর নাম জীবন। জীবন ধারণের জন্য পানি অপরিহার্য্য। এই অপরিহার্য্যতা পূরণের জন্য মহান আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টির ব্যবস্থা করেছেন। বৃষ্টির পানিতে নদী-নালা খাল-বিল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। অবারিত বর্ষণে নদী-নালা পূর্ণ হয়ে যে শ্রোতধারা তৈরী করে তাতে এক ধরণের ফেনা পানির উপরে ভাসমান হয়ে ওঠে। এক সময় এই ফেনা বিলিন হয়ে যায় কিন্তু পানি রয়ে যায় এবং মানুষ তা দিয়ে প্রয়োজন মিটায়। স্বর্ণকারের দোকানেও একই ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। অলংকার তৈরীর সময় স্বর্ণ যখন উত্তপ্ত করা হয় তখন এর খাদগুলো উপরে উঠে আসে। ফলে খাদ থেকে খাঁটি সোনা আলাদা করা সম্ভব হয়। পানির ফেনা যেমন ক্ষনিকের জন্য দৃশ্যমান হয়ে তা এক পর্যায়ে বিলিন হয়ে যায় তেমনি সাময়ীক ভাবে মিথ্যা বা বতিল শক্তির উত্থান ঘটলেও এর বিনাশ অবশ্যম্ভাবী।

    মানব জাতির প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ পরিমাপ করে শেষ করা যাবে না। তার দয়া ও অনুগ্রহ অবারিত। মানুষের প্রতি তাঁর কল্যাণের ধারা সবসময় চলমান। কে কতটুকু পেল বা গ্রহন করতে পারলো তা মানুষের নিজেস্ব ব্যাপার। যার যোগ্যতা ও ধারন ক্ষমতা বেশি সে বেশী পাবে আর যার যোগ্যতা ও ধারণ ক্ষমতা কম সে কম পাবে এটাই স্বাভাবিক।