ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা রা’দের ৭ নং আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

    সূরা রা’দের ৭ নং আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা

    সূরা রা’দের ৭ নং আয়াতের অনুবাদ ও সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা
    Rate this post

    মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে কৃতজ্ঞ এবং বিশ্ব নবী, সারওয়ারে কায়েনাত মোহাম্মাদ মোস্তফা(সা)ও তাঁর পবিত্র বংশধরদের প্রতি সালাম ও শুভাশীষ নিবেদন।
    ৭ নং আয়াতে বলা হয়েছে, “সত্য প্রত্যাখ্যানকারী কাফেররা বলে তার প্রতি তার পালনকর্তার পক্ষ থেকে কোন মোজেজা বা নিদর্শন অবতীর্ণ হলো না কেন?  ( হে রাসুল) আপনি তো কেবল সতর্ককারী, এবং প্রত্যেক সম্প্রদায়ের জন্যই সতর্ককারী রয়েছে।”

    যারা নেহায়েত গোয়ার্তুমির বশবর্তী হয়ে সত্যের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিল, তারা বলতো হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) কেন অন্যান্য নবী রাসুলের মত মোজেজা বা অলৌকিক কর্ম প্রদর্শন করেন না? এই আয়াতে কাফের মুশরেকদের এ ধরণের বক্তব্যের জবাব দেওয়া হয়েছে।
    প্রথমত: প্রত্যেক নবীর মোজেজা তার সময়ের সামাজিক প্রথা বা রীতির ভিত্তিতে হয়ে থাকে। যেমন হযরত মুসা (আ) এর সময় মিসরে যাদুর ব্যাপক প্রচলন ছিল। কাজেই হযরত মুসা(আ) এর মোজেজাও ছিল অনুরূপ। ফলে হযরত মুসা(আ) যখন তার মোজেজা প্রদর্শন করেন তখন ফেরাউন তাঁকে বড় যাদুকর আখ্যায়িত করেছিল। তেমনিভাবে হযরত ঈসা (আ) এর যুগে চিকিৎসা শাস্ত্রের উন্নতি সাধিত হয়েছিল, তাই হযরত ঈসা (আ) এর মোজেজাও ছিল এর সাথে সম্পর্কিত। যেমন তিনি মৃত প্রায় ব্যক্তিকে জীবন দান করতে পারতেন এবং অনেক কঠিন ব্যাধির আরোগ্য বিধান করতে পারতেন।
    কিন্তু বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) যে যুগে নব্যুয়ত লাভ করেন সে যুগে আরবে কাব্য ও সাহিত্য বেশ উৎকর্ষতা লাভ করেছিল। কাজেই বিশ্বনবীর উপর যে মহাগ্রন্থ অবতীর্ণ হয় তা সাহিত্যিক মানের দিক থেকে অদ্বিতীয় এবং অতুলনীয়।
    এই আয়াতে আরেকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, কাফেরদের মধ্যে গোয়ার্তুমি ছিল প্রবল। সত্যকে গ্রহণ করার মানসিকতা তাদের ছিল না। কাজেই বিশ্ব নবী যদি তাদের আবদার অনুযায়ী কোন মোজেজা প্রদর্শন করতেন তাহলে তারা তা দেখেও সত্যকে গ্রহণ করতো না বরং অন্য কিছুর বাহানা আনতো। আসলে পাপের কালিমায় যাদের অন্তর আচ্ছাদিত হয়ে যায় তাদের পক্ষে সত্য উপলব্ধি করা সম্ভব হয় না।
    এই আয়াত থেকে দুটি বিষয় সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা জায়ঃ
    এক. নবী রাসুলদের আগমনের উদ্দেশ্য মোজেজা বা অলৌকিক কর্ম প্রদর্শন করা নয়। পৃথিবীতে তাদের আগমন ঘটেছে মানুষকে সতর্ক করার জন্য এবং তাদেরকে সত্য পথ প্রদর্শন করার জন্য।
    দুই. বিশ্ব নবী হযরত মোহাম্মাদ (সাঃ) সর্বশেষ নবী ও রাসুল। তাঁর পর কোন নবী বা রাসুলের আগমন না ঘটলেও আল্লাহতা’লা প্রত্যেক সমাজেই আধ্যাত্মিক প্রজ্ঞাসম্পন্ন আলেম পাঠাবেন যারা সমাজকে সঠিক পথে পরিচালিত করার কাজে আত্মনিয়োগ করবেন।