ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা হুদ- পর্ব : ১১

    সূরা হুদ- পর্ব : ১১

    সূরা হুদ- পর্ব : ১১
    Rate this post

    সূরাহুদের ৪২ থেকে ৪৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, “পর্বত প্রমাণ তরঙ্গের মধ্যে এ (নৌকা) তাদেরনিয়ে বয়ে চললো, নূহ তার পুত্রকে যে (তাদের ডাকে) পৃথক ছিল, ডেকে বললেন, হে বৎসআমাদের সঙ্গে আরোহন কর এবং অবিশ্বাসী কাফেরদের সঙ্গী হয়ো না।”

    হযরত নূহ (আঃ) বহু বছর বেঁচে ছিলেন এবং মানুষকে সৎ পথে আনার জন্যতিনি বহুকাল ধরে চেষ্টা চালানকিন্তু এক পর্যায়ে দেখা গেল তার সম্প্রদায়েরমুষ্টিমেয় মানুষ ছাড়া আর কেউ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে রাজী হলোনা, বরং তারা হযরত নূহ(আঃ)কে নিয়ে নানাভাবে ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা শুরু করলোফলেগোয়ার্তুমী ও সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার জন্য তাদের উপর ঐশী শাস্তি অনিবার্য হয়েপড়েআল্লাহ তার বিশিষ্ট পয়গম্বর হযরত নূহ (আঃ)কে বিষয়টি অবহিত করলেনআল্লাহরনির্দেশ মত হযরত নূহ একটি বিশাল কিশতী বা নৌকা তৈরী করলেনএরপর একদিন আল্লাহরশাস্তি দুনিয়াকে গ্রাস করলো, মাটি থেকে পানি উদগত হতে লাগলো এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাতহতে থাকলোকোরআনের বক্তব্য অনুযায়ী পাহাড়ের মত তরঙ্গ পৃথিবীকে গ্রাস করলো, মহাপ্লাবনে সব কিছুই তছনছ হয়ে গেলহযরত নূহ (আঃ) এর সঙ্গী সাথী এবং নৌকায় আশ্রিতঅন্যান্য প্রাণী এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পেলেনকিন্তু বিষ্ময়ের বিষয় হচ্ছে, হযরত নূহ (আঃ) এর পুত্র কেনআন কাফেরদের দলভুক্ত হওয়ার কারণে নৌকায় উঠতে অস্বীকৃতিজানিয়েছিলকিন্তু যখন মহাপ্লাবনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল, হযরত নূহ (আঃ) এর মনে যেনপিতৃস্নেহ জেগে উঠলো, তিনি স্বস্নেহে পুত্র কেনআনকে কাফেরদের দল ত্যাগ করে মোমিনদেরকাতারে শামিল হওয়ার আহ্বান জানালেনসন্তানের প্রতি বাবা মায়ের যে দরদ এবং তাদেরমঙ্গল ও ভাবিষ্যতের ব্যাপারে পিতা মাতার যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, কেনআনের প্রতিহযরত নুহ (আঃ)এর আহ্বানে তা ফুটে উঠেছেএছাড়া অসৎ সঙ্গ বা কাফের মুশরেকদের সাথেওঠা বসার কারণে যে কেউ এমনকি পয়গম্বরের সন্তানও যে পথভ্রষ্ট হয়ে যেতে পারে, এই আয়াততারই উদাহরণ

    এবারে সূরা হুদের ৪৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলাহয়েছে, অর্থাৎ “(হযরত নূহের পুত্র) বললো, আমি এমন এক পর্বতে আশ্রয় নেব যা আমাকেপ্লাবন হতে রক্ষা করবে। (হযরত নূহ) বললেন, আজ আল্লাহর বিধান হতে রক্ষা করার কেউনেই। (রক্ষা পাবে) সেই যাকে আল্লাহ দয়া করবেনএরপর তরঙ্গ ওদের বিচ্ছিন্ন করে দিলএবং (হযরত নূহের পুত্র) নিমজ্জিতদের অন্তর্ভুক্ত হলো।”

    হযরত নূহ(আঃ) এর অবাধ্য পুত্র পিতার শেষ আহ্বান বিবেচনায় না এনেগোয়ার্তুমীর আশ্রয় নেয়সে ভেবেছিল পাহাড়ের চূড়ায় উঠে গেলেই প্লাবনের হাত থেকেরক্ষা পাওয়া যাবেতার এই বোধ ছিল না যে,আল্লাহ সর্বশক্তিমান, পাহাড়-পর্বত সব কিছুতারই নির্দেশের অধীনআল্লাহ চাইলে পর্বত চূড়াও যে তার ধ্বংসের উপযুক্ত স্থান হয়েউঠতে পারে এই বিশ্বাস তার ছিল নাযাইহোক পিতার সরল আহ্বান পুত্রের মনে রেখাপাতকরতে ব্যর্থ হয়ফলে ক্ষণিকের মধ্যেই এক উত্তাল তরঙ্গ নূহের পুত্রকে ভাসিয়ে নিয়েযায় মুত্যুর গহিনেযারা প্রকৃত মোমিন তারা বিপদের সময় আল্লাহকে স্মরণ করেনতারইসাহায্য কামনা করেনআর যাদের মনে ইমানের স্থিতি দুর্বল অথবা যারা মুশরেক তারাবিপদে পার্থিব বা জড়বস্তুকে অবলম্বন করে উদ্ধার পাওয়ার চেষ্টা করেফলে আল্লাহরসাহায্য থেকে তারা বঞ্চিত হয়

    এবার সূরা হুদের ৪৪ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলাহয়েছে, অর্থাৎ “(আল্লাহর শাস্তি ও কাফেরদের ধ্বংসের পর) বলা হলো, হে পৃথিবী! তুমিপানি শোষণ করে নাও এবং হে আকাশ তুমি ক্ষান্ত হও,এরপর বন্যা প্রশমিত হলো এবং কার্যসমাপ্ত হলো, নৌকা জুদী পর্বতের উপর স্থির হলো এবং বলা হলো ধ্বংসই সীমালঙ্ঘনকারীসম্প্রদায়ের পরিণাম।”

    এই আয়াতে বিশ্ব ইতিহাসের একটি বিরল ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে, হযরতনূহ (আঃ) এর সময়কার মহাপ্লাবনের সত্যতা এখন অনস্বীকার্যঐ মহাপ্লাবনে সব কিছুইধ্বংস হয়ে যায় এবং সৎ ও ইমানদার মানুষের মাধ্যমে পুণরায় পৃথিবীতে মানুষের বংশবিস্তার ঘটেপবিত্র কোরআনে এই ঘটনাটি আল্লাহর শাস্তি হিসাবে পরিণত হয়েছেহযরতনূহের নৌকা যে জুদি পর্বতে এসে ভিড়েছিল তা কোথায় অবস্থিত সে ব্যাপারে মুফাসসিরদেরমধ্যে মতপার্থক্য রয়েছেকারো মতে জুদী পর্বত তুরস্কের আরারাত পর্বতমালার অংশআবারকেউ মনে করেন ইরাকের মুসেলের আশেপাশে এই পর্বতটি অবস্থিতকোন কোন মুফাসসির ভিন্নমতও পোষণ করেনহযরত নূহ(আঃ) এর সময়কার এই ঘটনা থেকে মানুষের শিক্ষা নেয়া উচিতঅন্যায় পাপাচার এবং সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করার পরিণতি যে কত ভয়াবহ হতে পারে তা এইঘটনা থেকেই উপলদ্ধি করা যায়এছাড়া বন্যা ও ভুমিকম্পের মত প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেঅনেক ক্ষেত্রে মানুষের পাপের পরিণতিতেই হয়ে থাকে তাও এ ঘটনা থেকে আমরা উপলদ্ধি করতেপারি