ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা হুদ- পর্ব : ২

    সূরা হুদ- পর্ব : ২

    সূরা হুদ- পর্ব : ২
    Rate this post

    পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহর তিনি তাদেরস্থায়ী ও অস্থায়ী অবস্থিতি সম্বন্ধে অবহিত সুস্পষ্ট গ্রন্থে সব কিছুই আছে এইআয়াতে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহতায়ালার অফুরন্ত নেয়ামত এবং তার নিরঙ্কুশ ও সর্বাত্মকজ্ঞানের প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনই হচ্ছেন, জীবিকা ওজীবনোপকরণের মালিক এই আয়াতের মত পবিত্র কোরআনের আরো অনেক আয়াত থেকে এটা বুঝা যায়যে, মহান আল্লাহ শুধুমাত্র জীবের সৃষ্টিকর্তাই নন,তিনি সকল জীবের প্রতিপালক মানুষসহ ছোট বড় সকল জীবের জীবনোপকরণ তিনিই প্রদান করেন কোন কিছুই আল্লাহর আয়ত্তেরবাইরে নেইআল্লাহ রাব্বুল আলামীন একদিকে আলো-বাতাস, তাপ-অক্সিজেনসহ নানা উপকরণেরমাধ্যমে এই বিশ্বজগতকে জীবের বসবাস উপযোগী করেছেন অপরদিকে এসব নেয়ামত কিভাবেব্যবহার করা উচিত সেই শিক্ষাও মানুষকে দান করেছেনমায়ের বুকে যেমন নবজাতক শিশুরজন্য খাবারের ব্যবস্থা করেছেন তেমনি মায়ের দুধ কিভাবে খেতে হবে নবজাতক শিশুকে সেইশিক্ষাও দিয়ে দিয়েছেন এই আয়াত থেকে আমরা এটা বুঝে নিতে পারি যে, আল্লাহতায়ালা সকলসৃষ্টজীবের এবং জীবনোপকরণের ব্যবস্থা করেছেন, এটা আল্লাহর প্রতি সকল সৃষ্টজীবেরঅধিকার তবে এর অর্থ এই নয় যে, মানুষ তার জীবিকার জন্য আল্লাহর উপর নির্ভর করে বসেথাকবেজীবিকার জন্য প্রত্যেককে আল্লাহর উপর নির্ভর করে চেষ্টা চালাতে হবে

    এবারে এই সূরার ৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবোতিনি সেই সত্ত্বাযিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন আর তার আরশ ছিল পানির উপরে যেনতিনি যাচাই করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে কে আচরণে শ্রেষ্ঠ হে পয়গম্বর ! আপনি যদিবলেন যে, মৃত্যুর পর তোমরা পুনরুত্থিত হবে , তাহলে অবিশ্বাসীরা নিশ্চয়ইই বলবে এ তোস্পষ্টত অলীক কল্পনা

    পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহরাব্বুল আলামীন বিশ্বজগত সৃষ্টি করেছেন পানি বা পানির কোন উপাদান থেকে তিনি এইবিশ্ব জগতকে মূহুর্তেই সৃষ্টি করেন নি বরং ধাপে ধাপে এবং দীর্ঘ মেয়াদে তা সৃষ্টিকরেছেনমানুষ প্রকৃতির নিয়ম এবং নানা পরীক্ষার ভিতর দিয়ে আত্মিক উৎকর্ষতা এবংপূর্ণতা অর্জন করবে এটাই মানব সৃষ্টির উদ্দেশ্য প্রকৃতিতে আল্লাহর পরীক্ষায়উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যম হচ্ছে সৎকর্ম আর এর প্রেরণা হচ্ছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা পরীক্ষার নিয়মই হচ্ছে একদল তাতে কৃতকার্য হবে এবং আরেকটি দল হবে ব্যর্থ নশ্বরজীবনের পরীক্ষার ফল জানা যাবে পরকাল সেখানে প্রত্যেকেই তাদের কৃতকর্মের উপযুক্তফল লাভ করবে আল্লাহতায়ালা ইচ্ছে করলে যে কোন বস্তু মুহুর্তেই সৃষ্টি করতে পারেন কারণ তিনি সর্বময় ক্ষমতাবানকোন নেতিবাচকতা তার সত্ত্বার জন্য অকল্পনীয় তবেআল্লাহতায়ালা প্রকৃতিতে বা সৃষ্টিজগতে ক্রম পর্যায়ের ধারা প্রবর্তন করেছেনফলেপ্রকৃতির সবকিছুই সম্পন্ন হয় ধাবে ধাপে

    এবার ৮ নম্বর আয়াতের দিকে দৃষ্টি দিচ্ছি এই আয়াতে আল্লাহতায়ালাবলেছেন-

    নির্দিষ্ট কিছু দিনের জন্য আমি যদি ওদের শাস্তি স্থগিত রাখিতাহলে ওরা নিশ্চয়ইই বলবে, কিসের ফলে আমাদের শাস্তি বাধা প্রাপ্ত হয়েছেজেনে রাখ, শাস্তি যেদিন তাদের নিকট আসবে সেদিন তাদের নিকট থেকে তা আর ফিরে যাবে না এবং যানিয়ে তারা ঠাট্টা বিদ্রুপ করে তা তাদের পরিবেষ্টন করবে মানুষ যাতে আল্লাহর অবাধ্যনা হয় , পাপ এবং মন্দ কাজ না করে সেজন্য নবী রাসুলগণ সব সময়ই সতর্ক করে দিতেন পৃথিবীতেই যে পাপের প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে সে ব্যাপারে পয়গম্বরগণ বারবার সাবধান করেদিতেন কিন্তু পাপাচারী মানুষ অজ্ঞাত ও দম্ভের বশবর্তী হয়ে নবী-রাসুলদের সতর্কবাণী নির্দ্বিধায় উপেক্ষা করতো এবং এ নিয়ে তারা নানা রসিকতায় মেতে উঠতো

    এই আয়াতে আল্লাহতায়ালা এ প্রসঙ্গে বলেছেন, আমি বিশেষ অনুগ্রহেরকারণে যদি কোন পাপাচারী সম্প্রদায়কে শাস্তি দিতে বিলম্ব করি তার অর্থ এই নয় যে, তারা শাস্তি বা প্রতিদান থেকে অব্যাহতি পেয়ে গেছে বরং পাপাচারী সম্প্রদায় এইজগতেই তাদের শাস্তি লাভ করবেতারা যা নিয়ে রসিকতা করতো তাই তাদের জন্য কাল হয়েদাঁড়াবে তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে, শাস্তি বিলম্বিত হলে অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তিঅনুশোচনার সুযোগ লাভ করতে পারবেআল্লাহতায়ালা মানুষকে পাপ এবং অতীত ভুলে সংশোধনেরজন্য সময় দিতে থাকেন ধর্ম নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করা অবিশ্বাসী কাফেরদের একটিবৈশিষ্ট্য ইমানদার মুসলমানদের যুক্তি খন্ডন করার মতো তাদের কাছে যখন কোন যুক্তিথাকে না তখনই তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ বা রসিকতায় মেতে উঠে