ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা হুদ- পর্ব : ৬

    সূরা হুদ- পর্ব : ৬

    সূরা হুদ- পর্ব : ৬
    Rate this post

    এপর্বে সূরা হূদের ২০ থেকে ২৪ নম্বর আয়াত নিয়েআলোচনা হবে২০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ‍”তারা পৃথিবীতেও আল্লাহকে অপারগ করতে পারবে না এবং আল্লাহ ব্যতীত তাদের কোনসাহায্যকারীও নেইতাদের জন্য দ্বিগুণ শাস্তি রয়েছেতাদের শোনার সামর্থ ছিল না এবংতারা দেখতেও পেত না।”

    গত আলোচনার আমরা এর আগের আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছি, যারা মানুষকেআল্লাহর রাস্তায় চলতে বাধা সৃষ্টি করবে এবং সত্যকে গ্রহণ করার ব্যাপারে নিরুৎসাহিতকরবে, তাদের ইহকালীন জীবন হবে দুর্যোগে পরিপূর্ণ এবং পরকালেও থাকবে তাদের জন্যশাস্তির ব্যবস্থাএই আয়াতে বলা হচ্ছে, তারা যেন এটা মনে না করে যে, আল্লাহর শাস্তিএড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে কিংবা আল্লাহর শক্তিকে খর্ব করা যাবে, বরং এটা মনে রাখাউচিত, তারা যদি সম্মিলিতভাবে এবং সকলের পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে তা করতে চায়, কখনোইতা সম্ভব হবে নাএরপর এই আয়াতে বলা হয়েছে, এ ধরণে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকরী মানুষেরশাস্তি হবে দ্বিগুণকারণ তারা নিজেরা যেমন বিভ্রান্ত হয়েছে তেমনি অন্যকেওবিভ্রান্ত করে তার পাপের বোঝা নিজের কাঁধে নিয়েছেহাদিস শরীফের অনেক বর্ণনায় দেখাযায়, মুর্খ মানুষের চেয়ে পথভ্রষ্ট পন্ডিত ব্যক্তির শাস্তি হবে কয়েক গুণ বেশীএইআয়াতের শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে,

    এক. পরকালে বিচারের কাঠগড়া থেকে পালিয়ে যাওয়ার সাধ্য কারও নেই এবংসেদিন রাজা-বাদশাহ এবং সমাজের প্রতাপশালী কেউ কারো সাহায্য করতে পারবে না

    দুই. একগুঁয়েমী, অবাধ্যতা এবং বিদ্বেষ লালন করার কারণে কাফেরদেরশ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি লোপ পেয়ে গেছে, তাই সত্যকে তারা অনুধাবন করতে পারে না

    এবার ২১ ও ২২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবোএই দুই আয়াতে বলাহয়েছে, অর্থাৎ এরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করলো এবং যা তাদের কল্পনাপ্রসূত ছিল তাতাদের নিকট মিথ্যা প্রতিপন্ন হলো, পরলোকে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত- এতে কোনসন্দেহ নেই

    সমাজের পথভ্রষ্ট নেতা ও প্রতাপশালী ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করেএখানে বলা হয়েছে, তারা তাদের যাবতীয় পাথেয় এবং অবলম্বন হাতছাড়া করে ফেলেছেফলেতারা এখন অনন্তকালীন ক্ষতির নিগড়ে আবদ্ধ হয়ে পড়েছেইসলামের দৃষ্টিতে ইহজগত হচ্ছেএকটি বিপনী কেন্দ্রের মত, এখানে মানুষ তার জীবন ও কর্ম বিক্রীর জন্য উপস্থাপন করে আর এর ক্রেতা হচ্ছে, মহান আল্লাহ, শয়তান এবং কুপ্রবৃত্তিএর মধ্যে কেবল আল্লাহইমানুষের কৃতকর্মের উৎকৃষ্ট ও উত্তম মূল্য দিয়ে থাকেনতাই আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যকারো কাছে বিক্রী করা হলে ক্ষতিগ্রস্থ হবে, কারণ অন্য ক্রেতার কাছ থেকে যা পাওয়াযাবে তা সাময়ীকইহজীবনেই তা নি:শেষ হয়ে যাবেঅনন্তকালীন জীবনের জন্য তা কোন কাজেআসবে নাএই আয়াত থেকে আমাদের শিক্ষণীয় হচ্ছে, সম্পদ ও পদমর্যাদা হারানো অবশ্যইমানুষের জন্য একটি বড় ক্ষতি, কিন্তু সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে মনুষ্যত্ব বিসর্জিতহওয়াআরেকটি দিক হচ্ছে বৈষয়িক ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব কিন্তু হারিয়ে যাওয়া জীবন আরফিরে পাওয়া যায় নাফলে পরলোকগত হওয়ার পর জীবনের ভুল ত্রুটি শোধরানোর আর সুযোগ আসেনা

    এবার সূরা হুদের ২৩ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলাহয়েছে, ‍অর্থাৎ নিশ্চয়ই যারা বিশ্বাসী, সৎকর্মপরায়ণ এবং তাদের প্রতিপালকের প্রতিবিনয়াবনত, তারাই বেহেশতবাসী, সেখানেই তারা চিরকাল থাকবে

    পথভ্রষ্ট এবং সত্যকে ত্যাগ করার কারণে ইহলোক ও পরলোক দুই জায়গাতেইক্ষতিগ্রস্ত হবেতাদের আবাস হবে জাহান্নামেপক্ষান্তরে বিশ্বাসী সৎকর্ম পরায়ণমুসলমানরা তাদের কর্মের পুরস্কার লাভ করবেন এবং অনন্ত শান্তির আবাস জান্নাতে প্রবেশকরবেনএই আয়াতে বিনয় ও মিনতি প্রসঙ্গ এজন্যই বলা হয়েছে, যাতে দ্বীনদারীর কারণে কোনমোমিনের মনে অহংকার জন্ম না নেয়কারণ অহংকার ও গর্ব এবাদত বন্দেগীকে নষ্ট করে দেয়কাফের এবং একজন মুসলমানের মধ্যে এখানেই একটি বড় পার্থক্যঅবাধ্যতা, ঔদ্ধত্য এবংদম্ভ এসব হচ্ছে অবিশ্বাসী কাফেরদের বৈশিষ্ট্য অপর দিকে একজন মোমিন মুসলমান হচ্ছেআল্লাহর অনুগত ও বিনয়াবনতএই আয়াত থেকে আমরা উপলদ্ধি করতে পারি যে, মহান আল্লাহমানুষকে সৎপথে আনয়নের জন্য যেমন সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন তেমনি আবার উত্তমপুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছেনঅবাধ্যদেরকে তাদের পরিণামের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছেনএবং পবিত্র অন্তরের অধিকারী মোমিনদেরকে তাদের প্রাপ্য উত্তম পুরস্কারের সুখবরজানিয়েছেন

    এবার এই সূরার ২৪ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবোএই আয়াতে বলাহয়েছে, অর্থাৎ ‍‍‍‍‘উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে অন্ধ ও বধির এবং চক্ষুষ্মান ওশ্রবনশক্তি সম্পন্নের মততুলনায় দুটি কি সমান? তবুও কি তোমরা শিক্ষা গ্রহণ করবেনা?”

    কাফের এবং মোমিন মুসলমানের মধ্যে তুলনা করতে গিয়ে এই আয়াতে আল্লাহতাআলা একটি উপমা ব্যবহার করেছেনঅর্থাৎ কাফের অবিশ্বাসীরা সত্যকে যেন দেখতে পায়নাসত্যের বাণী তাদের কানে যেন পৌছেনাফলে তারা অন্ধ ও বধিরের মতকিন্তু মোমিনমুসলমানরা সত্যের বাণী বিবেচনা করে তা গ্রহণ করে ফলে তারাই আসলে শ্রবন ওদৃষ্টিশক্তির অধিকারীকিন্তু মানুষ খুব কমই এই বাস্তবতার প্রতি লক্ষ্য করে এবং এথেকে কমই শিক্ষা নেয়মানুষ অন্যান্য সকল প্রাণীর মত ইন্দিয়গ্রাহ্য সকল কিছুপ্রত্যক্ষ করে কিন্তু মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাণীর পার্থক্য হচ্ছে, মানুষঅতীন্দ্রিয় বিষয় নিয়ে ভাবে, উপলদ্ধি করে যা অন্যান্য প্রাণী পারে না