ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা হুদ- পর্ব : ৭

    সূরা হুদ- পর্ব : ৭

    সূরা হুদ- পর্ব : ৭
    Rate this post

    ২৫ ও ২৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ “নিশ্চয়ইই আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছিলাম। (তিনি বলেছিলেন)আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী, যাতে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত অপর কিছুর উপাসনানা করআমি তোমাদের জন্য এক যন্ত্রনাদায়ক দিনের শাস্তি আশঙ্কা করি।”

    এই আয়াতে হযরত নূহ (আঃ) এর রেসালত এবং তার সম্প্রদায়ের প্রতিএকত্ববাদের আহ্বান ও এর পরিণতি সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে তিনি মূর্তি পুজারবিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং নিজ সম্প্রদায়কে এক সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করারআহ্বান জানিয়েছিলেনকিন্তু বছরের পর বছর এমন কি যুগের পর যুগ অতিক্রান্ত হলেও খুবঅল্প সংখ্যক মানুষ তার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলফলে এক পর্যায়ে তিনি নির্বোধ ও সত্যবিমুখ ঐসব মানুষের শাস্তি কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করলেনতার ঐ অভিশাপেরফলে শুরু হয়ে যায় দুনিয়া জুড়ে এক মহা প্লাবনেরঐ প্লাবনে হযরত নূহের অনুসারীমোমিনরা ছাড়া বাদবাকী সব মানুষ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নবী রাসূল বা আল্লাহর প্রেরিতমহাপুরুষরা অনর্থক কিছু বলেন নাতাদের হুমকী বা সতর্কবাণী খুব গুরুত্বের সাথেইগ্রহণ করা উচিতহযরত নূহ (আঃ) যুগ যুগ ধরে মানুষের জন্য সতর্কবাণী উচ্চারণকরেছিলেনকিন্তু বেশীর ভাগ মানুষ তাতে কর্ণপাত করেনিএর পরিণতি তাদেরকে ভোগ করতেহয়েছিলপৃথিবীতে যত নবী-রাসূল এসেছেন, তাদের সকলেই তাওহীদ বা একত্ববাদের বাণীপ্রচার করেছেনতারা মানুষকে এক সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করতে বলেছেন এবং শিরক বামুর্তিপুজার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন

    এবার এই সূরার ২৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলাহয়েছে, অর্থাৎ “তার সম্প্রদায়ের প্রধান ব্যক্তিরা যারা ছিল অবিশ্বাসী কাফের, তারাবললো আমরা তোমাকে তো আমাদের মতই একজন মানুষ দেখছিআমরা দেখছি যারা আমাদের মধ্যেঅধম তারাই অনুধাবন না করে তোমার অনুসরণ করছে এবং আমরা আমাদের উপর তোমাদের কোনশ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদী মনে করি।”

    পৃথিবীতে যত নবী রাসূলের আগমন ঘটেছে, প্রত্যেকেই তৎকালীন সমাজেরপ্রতাপশালী ব্যক্তিদের বিরোধীতার সম্মুখীন হয়েছেনসমাজের প্রতাপশালী ব্যক্তিরা সবসময় নবী রাসূলদেরকে নিজেদের প্রতিদ্বন্দ্বী এবং একচ্ছত্র ক্ষমতার ব্যাপারে হুমকিহিসাবে বিবেচনা করেছেমানুষ নবী রাসূলদের আনুগত্য করলে সমাজে তাদের একচ্ছত্রপ্রভাব ও কর্তৃত্ব খর্ব হবে এই ভেবে তাদের দুঃশ্চিন্তার অন্ত ছিল নাএ প্রসঙ্গে এইপবিত্র আয়াতে বলা হয়েছে, হযরত নূহ(আঃ) এবং তার অনুসারীদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেতৎকালীন সমাজের নেতারা সাধারন মানুষকে আল্লাহর বিধান গ্রহণ করা থেকে বিরত রাখারকৌশল গ্রহণ করেছিলতারা প্রচার করেছিল নূহ তো আমাদের মতই একজন মানুষ আমাদের উপরতার কি শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে যে, তার আনুগত্য করতে হবে?

    একটি লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, সকল নবী-রাসূলই স্পষ্ট করে বলেছেন, আমরাও অন্যদের মত মানুষ, ফেরেশতা নইকিংবা (আল্লাহ মাফ করুক) আমরা সৃষ্টিকর্তারসন্তানও নইআমাদের সাথে অন্যান্য মানুষের পার্থক্য হচ্ছে, আমাদের উপর ওহী বাআল্লাহর প্রত্যাদেশ বাণী আসে, আর আমরা এই ঐশী বাণী হুবহু মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ারগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিঅবিশ্বাসী কাফেররা হযরত নূহ (আঃ) এর অনুসারীদেরকেহেয় করার জন্য বলতো ওরা মুর্খ এবং স্থূলবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষসমাজের নিম্ন শ্রেনীরএসব মানুষের স্বীকৃতি ও আনুগত্য আপনার নব্যুয়তের সত্যতার প্রমান হতে পরে নাআসলেসব সময়ই সমাজের দুর্বল শ্রেণী সত্য গ্রহণে অগ্রগামী হয়েছেএর কারণ বিত্তবানদেরপ্রতাপ এবং নিস্পেষণের হাত থেকে নিস্কৃতি লাভের জন্য গরীব ও দুর্বল মানুষ নবীরাসূলদের আনুগত্যের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ হয়েছেযাইহোক, যারা সত্য দ্বীনকে গ্রহণ করতেচায়নি, তারা সব সময়ই নানা বাহান দাঁড় করিয়েছেনবী-রাসূলদেরকে তারা যাদুকর এবংআল্লাহর বাণীকে রূপকথা বলতেও তারা দ্বিধা করেনিএই আয়াতের পরিপ্রেক্ষিতে এটা বলতেপারি যে পার্থিব জগতের প্রতি যার মোহ যত কম, সত্য দ্বীনের প্রতি এবং আল্লাহর প্রতিতার আকর্ষণ ততবেশী

    এবার আমরা সূরা হুদের ২৮ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবএই আয়াতেবলা হয়েছে, অর্থাৎ ” নূহ (আঃ) বললেন, হে আমার জাতি! দেখ তো আমি যদি আমার পালনকর্তারপক্ষ থেকে স্পষ্ট নিদর্শনে প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকি এবং তিনি যদি তার পক্ষ থেকে আমাকেঅনুগ্রহ দান করে থাকেন, আর তা যদি তোমাদের চোখে না পড়ে, তাহলে আমি কি তা তোমাদেরইচ্ছার বিরুদ্ধেই চাপিয়ে দিতে পারি ?”

    হযরত নূহ (আঃ) কাফেরদের তিরস্কারকে ভ্রুক্ষেপ না করে অত্যন্তবিনয়ের সাথে তাদেরকে বললেন, যদিও আমি তোমাদের মতই একজন মানুষ, তারপরও আমি নব্যুয়তেরযে দাবী করছি তার পক্ষে সু্স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছেআমার হাতে জেজা বা অলৌকিক কাজপ্রদর্শনের ক্ষমতা রয়েছেএছাড়া আমার আহ্বানের পেছনে শক্তিশালী এবং অকাট্য যুক্তিরয়েছে যা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী ব্যক্তিরা অগ্রাহ্য করতে পারবে নাআমি যা বলছি তাআমার কথা নয়, বরং আমি তোমাদেরকে শেরক বা অংশীবাদের কদর্যতা থেকে মুক্ত করেআল্লাহমূখী করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিমহান সৃষ্টিকর্তা আমার প্রতি অনুগ্রহ করেছেনএবং রেসালতের কঠিন দায়িত্ব আমার কাঁধে অর্পন করেছেনতবে আমি কিংবা সৃষ্টিকর্তা কোনকিছু তোমাদের উপর চাপিয়ে দেব নাকারণ সৃষ্টিকর্তা মানুষের বিচার বুদ্ধি এবংবিবেচনা করবার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেননবী-রাসূলগণ অনর্থক এবং অযৌক্তিক কোন কথাবলেন নাতাদের প্রতিটি কথাই যুক্তি ও প্রমাণ সাপেক্ষফলে জ্ঞানী ব্যক্তিরাই সেদিকে বেশী আকৃষ্ট হয়এই আয়াত থেকে আরেকটি শিক্ষণীয় দিক হচ্ছে, ধর্মীয় বিশ্বাস কারোউপর চাপিয়ে দেয়া যাবে নামানুষই একমাত্র সৃষ্টি যার জ্ঞান ও বিচার বিবেচনার ক্ষমতারয়েছে, তাই আল্লাহ চান মানুষ তার জ্ঞান ও বিচার-বুদ্ধির মাধ্যমে সত্যকে গ্রহণ করুক