ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা হুদ- পর্ব : ৮

    সূরা হুদ- পর্ব : ৮

    সূরা হুদ- পর্ব : ৮
    Rate this post

    ২৯ ও ৩২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, ” হে আমার সম্প্রদায়! ধর্ম প্রচারের প্রতিদান হিসাবে আমি তোমাদেরকাছে ধন সম্পদ চাই নাআমার শ্রমফল আল্লাহর নিকট রয়েছে। (তোমাদের কারণে) আমিবিশ্বাসী ইমানদারদেরকে তাড়িয়ে দেব না। (কারণ) তারা অবশ্যই তাদের প্রতিপালকেরসাক্ষাৎ লাভ করবেতবে আমি দেখতে পাচ্ছি তোমরাই এক অজ্ঞ সম্প্রদায়হে আমারসম্প্রদায়, আমি যদি তাদেরকে তাড়িয়ে দিই তাহলে আল্লাহর দরবারে কারা আমার সাহায্যকারীহবে? তবুও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?”

    গত পর্বের আলোচনায় বলা হয়েছে, হযরত নূহ (আ:) যখন তার সম্প্রদায়কেএক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য আহ্বান জানান, তখন সমাজের বিত্তবান ওপ্রতাপশালীদের অধিকাংশই তা প্রত্যাখ্যান করেতারা হযরত নূহ (আ:) এবং তারঅনুসারীদেরকে হেয় করার জন্য বলে বেড়াতে থাকে যে, যারা হযরত নূহকে রাসূল হিসাবেবিশ্বাস করেছে তারা মুর্খ এবং সমাজের খুবই নীচু স্তরের মানুষতাদের এইমন-মানসিকতার জবাবে এই আয়াতে বলা হয়েছে, প্রথমত: ধর্ম প্রচারের জন্য হযরত নূহ (আ:)তোমাদের কাছে ধন সম্পদ কামনা করছেন না এবং তিনি কোন পদমর্যাদা লাভেরও প্রত্যাশী ননফলে এ ধরণের আশঙ্কায় তোমাদের বিচলিত হওয়ার কোন কারণ নেইদ্বিতীয়ত: তোমাদেরকেআকৃষ্ট করার জন্য সমাজের দুর্বল ও দরিদ্র মানুষকে হযরত নূহ দুরে সরিয়ে দেবে এমন আশাকরাও ঠিক হবে নাকারণ আল্লাহর কাছে ধনী হিসাবে গরীবের উপর তোমাদের কোনইশ্রেষ্ঠত্ব নেইফলে এ ধরণের কোন কিছু করা হলে তারা যদি প্রতিফল হিসাবে বা কেয়ামতেরদিন আল্লাহর কাছে হযরত নূহের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তোলে তাহলে সেদিন তার জবাবদেয়ার মত কিছু থাকবে নাআয়াতে শেষভাগে বলা হয়েছে, এ জাতীয় অনর্থক দাবীর ফলে তাদেরমুর্খতা ও অজ্ঞতাই প্রামাণিত হয়কারণ তারা শুধু বৈষয়িক মাপকাঠিতেই সব কিছু বিবেচনাকরে এবং নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে মনে করে

    এই আয়াত থেকে আমরা দুটি জিনিস উপলদ্ধি করতে পারি

    এক. নবী-রাসূলগণ ধন-সম্পদ এবং পার্থিব মোহ থেকে মুক্তএটাই তাদেরসত্যতার প্রমাণ বহন করে

    দুই. সমাজের অভিজাত শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার জন্য দরিদ্র শ্রেণীকেঅবহেলা করা বা তাদেরকে দুরে ঠেলে দেয়া উচিত নয়বরং অভিজাত শ্রেণীর উচ্চাভিলাষ ওঅযৌক্তিক প্রত্যাশাকেই উপেক্ষা করা উচিত

    এবারে এই সূরার ৩১ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবোএ আয়াতে বলাহয়েছে, ” আমি তোমাদেরকে বলি না, আমার নিকট আল্লাহর ধন-ভান্ডার আছে, এ কথাও বলি নাযে, অদৃশ্য সম্বন্ধে আমি অবগতএটাও বলি না যে, আমি ফেরেশতাতোমাদের দৃষ্টিতে যারাতুচ্ছ তাদের সম্পর্কে আমি বলি না যে, আল্লাহ তাদের কখনোই মঙ্গল দান করবেন নাতাদেরঅন্তরে যা আছে আল্লাহ তা ভালো করেই জানেনসুতরাং এমন কথা বললে আমি অবশ্যইসীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবোহযরত নূহ (আ:) তার সম্প্রদায়ের আরো কিছুঅবান্তর ধারণার জবাব দিয়েছেনতাদের ধারণা ছিল হযরত নূহ (আ:) নিশ্চয়ইই কোন গুপ্তধনবা সোনার খনি লাভ করেছেন এবং যারা তার আনুগত্য করবে নিশ্চয়ইই তিনি তাদের মধ্যে তাবন্টন করবেনতারা এটাও মনে করতো হযরত নূহ হয়তো, অদৃশ্য সম্বন্ধে জ্ঞান রাখেনতাইতিনি ভবিষ্যত বাণীর মাধ্যমে তার অনুসারীদেরকে সম্ভাব্য বিপদাপদ থেকে রক্ষা করবেনতাদের মধ্যে অনেকের ধারণা ছিল পয়গম্বররা নিশ্চয়ই ফেরেশতাদের মতসাধারণ মানুষের মতযদি খাবার গ্রহণ করে, বিয়ে করে, সংসার করে, তাহলে পয়গম্বর হলো কি করে? “

    হযরত নূহ (আ:) এসব অবান্তর ধারনার জবাবে বললেন, আমি একজন মানুষএবং সাধারণ মানুষের মতই আমি জীবন যাপন করিশুধু পার্থক্য হলো, মহান সৃষ্টিকর্তাআল্লাহ আমার কাছে ওহী পাঠায় এবং তার ওহী বা বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বতিনি আমার উপর অর্পন করেছেনআমার হাতে কোন গুপ্ত ধনের ভান্ডার নেই, অদৃশ্যসম্বন্ধেও আমার কোন জ্ঞান নেইসৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ যতটুকু আমাকে অবহিত করেন, তার মধ্যেই আমার জ্ঞান সীমিতআর আমার অনুসারীদের ব্যাপারে তোমাদের মন্তব্যওগ্রহণযোগ্য নয়পয়গম্বরের অনুসারীদেরকে সমাজের অভিজাত শ্রেণীর মধ্য থেকেই হতে হবেএমন ধারণা অযৌক্তিককাজেই আমার অনুসারীদেরকে দরিদ্র বলে তোমরা যেভাবে হেয় করারচেষ্টা করছো তাতে আমার কিছু আসে যায় না

    নবী-রাসূলগণ হলেন, আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তিআল্লাহর বাণী মানুষেরকাছে পৌছে দেয়ার গুরু দায়িত্ব তাদের উপর ন্যস্ততাদের কথা ও কাজে কোন অসামঞ্জস্যতানেইতারা মানুষকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য চেষ্টা করেনতাই বলে মানুষকে আকৃষ্টকরার জন্য কখনোই মিথ্যা অঙ্গীকার করেন না

    এবার আমরা সূরা হুদের ৩২ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করবোএ আয়াতেবলা হয়েছে, অর্থাৎ ” তারা বললো, হে নূহ! আপনি আমাদের সাথে অতিমাত্রায় বিতন্ডাকরেছেন, সুতরাং আপনি সত্যবাদী হলে, সেই শাস্তি নিয়ে আসুন যে সম্পর্কে আপনি আমাদেরকেসতর্ক করেছেন।”

    হযরত নূহ (আ:) এর যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য খন্ডন করার মত যুক্তি যখনতারা পেল না তখন তারা হযরত নূহের বক্তব্যকে অহেতুক বিতর্ক বা বিতন্ডা বলে আখ্যায়িতকরলোতারা হযরত নূহ (আ:)এর বক্তব্য অনুধাবন করার চেষ্টা না করে, চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েদিয়ে বললো, আপনার কথা সত্য হয়ে থাকলে ঐশি শাস্তি নিয়ে আসুনআমরা আপনার কথিত শাস্তিদেখতে চাই