ইসলামী সূত্র

  • features

    1. home

    2. article

    3. সূরা হুদ- পর্ব : ৯

    সূরা হুদ- পর্ব : ৯

    সূরা হুদ- পর্ব : ৯
    Rate this post

    ৩৩ ও ৩৪ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ “(অবিশ্বাসী কাফেরদেরকে হযরত) নূহ (আ:) বললেন, আল্লাহইচ্ছা করলে তিনিই তোমাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করবেন এবং তা প্রতিহত করতে তোমরাঅমযদি আল্লাহ তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে চান তাহলে আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিতেচাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের উপকারে আসবে নাতিনিই তোমাদের প্রতিপালক এবং তারই নিকটআমরা প্রত্যাবর্তন করব।”

    গত আসরে আমরা আলোচনা করেছি যে, হযরত নূহ (আ:)এর সম্প্রদায় যখনযুক্তির সামনে টিকতে পারলো না তখন ঔদ্ধত্যের সাথে বলেছিল, আপনি সত্যবাদী হয়ে থাকলেদুনিয়াতেই ঐশী শাস্তির ব্যবস্থা করুন, আমরা দুনিয়াতেই ঐশী শাস্তির নমুনা দেখতে চাইএর জবাবে হযরত নূহ (আ:) বললেন, শাস্তি বা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ব্যবস্থা করা আমারহাতে নেই, এসব সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর হাতেআমি শুধু তোমাদেরকে এই বলে সতর্ক করতে চাইযে, যদি সত্যিই আল্লাহর পক্ষ থেকে কোন শাস্তি বা বিপর্যয় নেমে আসে তাহলে তা প্রতিহতকরার সামান্য ক্ষমতাও মানুষের নেইফলে তাতে তোমাদের ধ্বংস অনিবার্যতিনি আরোবলেন, পয়গম্বর হিসাবে আমার দায়িত্ব হচ্ছে, মানুষকে সৎ পথে আহ্বান করা এবং আল্লাহরবাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়াদম্ভ বা খামখেয়ালীপনার কারণে মানুষ যদি সত্য দ্বীনকেগ্রহণ না করে, তাতে পয়গম্বরদের করার কিছু নেইএই দুই আয়াত থেকে আমরা দুটি বিষয়উপলদ্ধি করতে পারিএক পয়গম্বরগণ মানুষের মঙ্গল ও কল্যান কামনা করেন, তারা অত্যন্তনম্র ও পরিশীলিত ভাষায় সত্যের দাওয়াত মানুষের কাছে তুলে ধরেনদুই-অবিশ্বাসী ওখোদাদ্রোহী কাফেররা বাহ্যত: এই ইহজগতে শাস্তি না পেলে এটা মনে করা ভুল হবে যে, তারাবেঁচে গেছেবরং এটা মনে রাখা উচিত যে, পরকাল সামনে রয়েছে এবং সেদিন প্রত্যেককেআল্লাহর সামনে হাজির হতে হবে

    এবার সূরা হুদের ৩৫ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ আয়াতে বলাহয়েছে, অর্থাৎ মুশরেকরা বলে, আপনি নিজে কোরআন রচনা করেছেন, আপনি বলে দিন আমি যদি এরচনা করে থাকি তবে আমিই আমার অপরাধের জন্য দায়ী হবতোমরা যে অপরাধ করছো তার জন্যআমি দায়ী নই।”

    প্রত্যেক নবী রাসূলকে নিজ নিজ যুগে কাফের মুশরেকদের বিরোধীতা ওপ্রতিবন্ধকতা ভেদ করে কাজ করতে হয়েছেকাফের-মুশরেকরা পয়গম্বরদের এত বেশী বিরোধীতাকরতো যে, তারা নবীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও প্রবঞ্চণার অভিযোগও খাড়া করতোহযরত নূহ (আ:)ও এ ধরণের অপপ্রচারণার সম্মুখীন হয়েছিলেন। । তৎকালীন কাফেররা প্রচার করতো হযরতনূহ (আ:)আল্লাহর নামে যা প্রচার করছে প্রকৃতপক্ষে তা আল্লাহর বাণী নয়এসবই তাররচিত বাণীএই আয়াতে এসব অপপ্রচারের জবাবে বলা হয়েছে, পয়গম্বর সম্পর্কে এসব কটু কথাবলে, শেরক বা অংশীবাদকে জায়েজ করা যাবে নাযদি ধরে নেয়া হয় যে, হযরত নূহের দাবীঅসত্য, তাহলে এর দায় দায়িত্ব তারইতবে এটাও মনে রাখতে হবে যে, সত্য প্রত্যাখ্যানেরজন্য কাফেরদেরকেই দায়ী থাকতে হবেগ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের জন্য পয়গম্বর দায়বদ্ধনন

    এবার সূরা হুদের ৩৬ ৩৭ নম্বর আয়াত নিয়ে আলোচনা করা যাকএ দুটিআয়াতে বলা হয়েছে, অর্থাৎ “হযরত নূহের প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছিল, যারা বিশ্বাস করেছেতারা ব্যতীত তোমার সম্প্রদায়ের অন্য কেউ কখনও বিশ্বাস করবে নাসুতরাং তারা যা করেতার জন্য তুমি দুঃখ করো নাতুমি আমার তত্ত্বাবধানে ও আমার প্রত্যাদেশ অনুযায়ী নৌকানির্মান কর এবং যারা সীমালঙ্ঘন করেছে তাদের সম্পর্কে তুমি আমাকে কিছু বলো না।”

    পবিত্র কোরআনের আরো কয়েকটি আয়াত থেকে জানা যায় যে, হযরত নূহ (আ:)প্রায় এক হাজার বছর তার সম্প্রদায়কে একত্ববাদের দাওয়াত দেনকিন্তু দীর্ঘ এক হাজারবছরে মুষ্টিমেয় কিছু লোক তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুসলমান হয়এক পর্যায়ে হযরত নূহ (আ:) এর উপর প্রত্যাদেশ হয় যে, আর কেউ সত্য ধর্মের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে না এবংঅচিরেই এই অবিশ্বাসী সম্প্রদায়ের উপর ঐশী শাস্তি নেমে আসবেপ্রলয়ঙ্করী ঝড় ও বন্যাপৃথিবীকে গ্রাস করবে, যারা হযরত নূহের তৈরী নৌকায় আশ্রয় নিবে তারাই শুধু রক্ষাপাবেআর বাকীরা মহাপ্লাবনে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাবে

    এই আয়াতে ঐ ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে, আল্লাহ পাকমোমিনদেরকে রক্ষার জন্য হযরত নূহকে বড় একটি নৌকা তৈরীর জন্য নির্দেশ দিলেনপাপ ওসত্য ত্যাগের ফলে ঐশী আযাব যখন অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে তখন দোয়া আর কাজে আসে নাহযরতনূহ (আ:)এর সময়ও তাই হয়েছেপাপ ও সত্য প্রত্যাখ্যানের কারণে শাস্তি যখন অনিবার্যহয়ে পড়ে তখন হযরত নূহকে আল্লাহ পাক কাফেরদের জন্য দোয়া করতে বারন করে দেন